বাংলা বানান কি ও কী এর ব্যবহার
অনেকেই কি এবং কী এর বানানের (অর্থ বা Meaning) আসলে কি প্রকাশ করে তা জানে না বা বুঝতে পারে না। [কি এবং কী] বানানে, ব্যবহারে, অর্থে প্রায়ই ছাত্রছাত্রীরা ভুল করে থাকে। আজকে সারাজীবনের জন্য সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। [কি এবং কী]বানান সম্পর্কে প্রাচীনপন্থীদের ধারণা গুলো হলো।
১. কী হলো নব্য বা নতুন বানান যা সংস্কার বিলাসীদের উৎকট বা তীব্র বা প্রখর সৃষ্টি।
২. সংস্কৃত [কিম] ধাতু বা ক্রিয়া প্রকৃতি বা ক্রিয়ামূল হতে [কি] এসেছে তাই কি বানানই সঙ্গত বা সমীচীন।
৩.এই বানানে (কি) শব্দের অনেক বা নানা রকমের অর্থ হতে পারে। তাই প্রসঙ্গ অনুধাবন বা অনুসরণ বা বিবেচনা করেই শব্দের অর্থ নির্ণয় বা বাছাই করতে হয়।এগুলোই প্রাচীনপন্থীরা মনে করতো।
কিন্তুু প্রাচীনপন্থীদের উপর্যুক্ত বা উপরে উল্লিখিত হয়েছে এমন বা পূর্বে কথিত ধারণা মতে ”কী”নতুন বানান নয়। কারণ “কী” বানাটি প্রাচীন সাহিত্য আরো অনেক কবি ব্যবহার করেছেন। যেমন : চন্ডীদাস, বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস প্রমুখ বা আরো অনেক কবিগণ (কী) বানানের ব্যবহার করেছেন তার লেখনিতে। কোথায় ব্যবহার করেছেন?
১.শ্রীকৃষ্ণকীর্ত কাব্যে
২.ময়নামতির গানে
৩.মহারাষ্ট্র পুরাণ। ইত্যাদি কাহিনি কাব্যে অর্থের বিবেচনা ছড়াই বা তখন [কি এবং কী ] এর একই অর্থ ছিলো কোন প্রকার পার্থক্য ছিলো না। অর্থের পার্থক্য ছাড়াই নির্বিচারে ব্যবহার করা হয়েছে।
কিন্তুু বর্তমানে আমাদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) বাংলা বানানে কি এবং কী এর অর্থের পার্থক্যটা তিনিই দেখিয়ে বানানের প্রচলন করেছেন। তাহলে বুঝতে পারলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “কী”বানান প্রবর্তন বা শুরু বা সূচনা করেন নি। তার আগে মধ্যযুগের বাংলা কবিরা প্রবর্তন বা শুরু বা সূচনা করেছিলেন (কী) বানাটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু অর্থের পার্থক্য সৃষ্টি করেছেন। মোট কথা কি এবং কী এর (অর্থ বা Meaning) এক নয়। তারা আলাদা আলাদা অর্থ প্রকাশ করে। বানানও দুটোর আলাদা আলাদা।
বাংলা বানানে [কি] এর ব্যবহার
কি = আমারা যদি “কি” দ্বারা প্রশ্ন করি।
যেমনে: ১.তুমি কি খাবে ?
২.আজ কি রান্না হবে ?
৩. সুমি কি পাখি পোষে ?
উপরের বানানের ক্ষেত্রে প্রতিটা প্রশ্নের জবাবে বা উত্তরে বা Ans [হাঁ অথবা না, Yes or No ] বলা যায় বাড়তি কোন শব্দের প্রয়োজন পরে না। এক্ষেত্রে [কি] এর ভূমিকা হলো [হাঁ অথবা না, Yes or No] প্রশ্ন করা তাই এই “কি” টা হলো প্রশ্নসূচক অব্যয়।
বাংলা বানানে [কী] এর ব্যবহার
কী =আমারা যদি “কী” দ্বারা প্রশ্ন করি।
যেমনে: ১.তুমি কী খাবে ?
২.আজ কী রান্না হবে ?
৩. সুমি কী পাখি পোষে ?
এখানে বা এ বানানের ক্ষেত্রে =[হাঁ বা না Yes or No ]দ্বারা জবাব হবেনা। “কী” বানান থাকলে বুঝতে হবে যে কোন প্রকার বুঝাচ্ছে। যেমন:-
১. তুমি কী খাবে? এখানে বুঝানো হচ্ছে কোন ধরণের খাবার, [মাছ,ভাত,ডিম,সবজি,ফল,মিষ্টি] ইত্যদি খাদ্যের নাম জিজ্ঞেস করা হচ্ছে।
২.আজ কী রান্না হবে? এখানে বুঝতে হবে বা অর্থ হলো,[ ভাত, মাছ, সবজি, ডিম, পোলাও] ইত্যাদির কথা জিজ্ঞেস করা হচ্ছে।
৩.সুমি কী পাখি পোষে? এখানে “কী” দ্বারা বুঝানো হচ্ছে যে, সুমি ময়না,টিয়া, কাউয়া,কইতর, ময়ূর, কোকিল মানে কোন ধরণের পাখি পোষে।
এক্ষেত্রে কী হলো প্রশ্নসূচক সর্বনাম বা সর্বনামজাত বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণ।
[কি এবং কী] দ্বারা সবসময় প্রশ্ন করা হয় তাই বাক্যের শেষে অবশ্যই প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিতে হবে।।
Pingback: বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের নিয়ম